মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

হাওরের মাঝে হিজল গাছের বাগান ও হিজল ফুল



           হাওড়ের পানির অন্যতম আকর্ষন হিজল গাছ। মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে হিজল গাছ বা হিজল গাছের বাগান দেখা যায়। হিজল মাঝারি আকারের চিরহরিৎ গাছ। বাকল ঘনছাই রঙের ও পুরু। ডালপালার বিস্তার চারদিকে। উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ মিটার। জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এবং বাঁচে দীর্ঘদিন। বাংলাদেশের জলাবদ্ধ এলাকা খাল, বিল, নদী-নালা, হাওর, বাঁওড় ও ডোবার ধারে সর্বত্র হিজল গাছ চোখে পড়বে।
 

           হিজলের কাঠ নরম, সাদা বর্ণের, উজ্জ্বল, মসৃণ ও টেকসই। পানিতে নষ্ট হয় না বলে নৌযান তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। ।সস্তা আসবাব তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। জ্বালানি হিসেবেও এর ব্যবহার ব্যাপক। এর বাকল থেকে ট্যানিন পাওয়া যায়। এছাড়া উদ্ভিদটির মেডিসিনাল গুরুত্ব রয়েছে।
 

          হিজল ফুল ফোটে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। গোলাপি রঙের হিজল লম্বা পুষ্পদণ্ডের মধ্যে অসংখ্য ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুল ফোটা শুরু হয়। সকালের আলোয় ঝরে যায়। হিজলতলায় সকালে গেলে মনে হবে গোলাপি বিছানা পাতা। হাওড়ের পানির ওপর পড়া হিজল ফুলের আস্তরণ চেনা রূপ। রাতে বা ভোরে হিজল তলার সামনে দিয়ে গেলে বা দূর থেকেও এর মাদকতাপূর্ণ মিষ্টি ঘ্রাণে মাতাল হতে হয়

হিজল ফুলের গন্ধে মাতাল কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাই লিখেছেন,
                            

        “পিছল পথে কুড়িয়ে পেলাম হিজল ফুলের মালা
            কি করি এ মালা নিয়ে বল চিকন কালা···”